শা পা শিরিন চি নি নখ

সঃ

পট সপ

২শ বধ, ১ম

সংখ্যা] বৈশাখ 1

অধ্যাপক শ্রীকল্যাণচজ্ গুপ্ত, এম.এ. ( প্রধান সপ অধ্যাপক জীদেবীপ্রসা

ৰঙীয় দর্শন পরিষদের.

(ইজমাসিক জিকা),

সম্পাদকীয়.সমিতি

ঢঞ্ছার্জ বঙ্গীয় দর্শন পরিবদের সুখপত্র

( 8জমানিক্ষ স্পজ্িিল্ক] )

১২শ বর্ষ, ১ম সংখ্যা ] বৈশাখ [ বৈশাখ ১৩৬২ সাল

জ্চীপত্র

বিষয় লেখক সাম্প্রতিক দর্শনচর্চার , একটি দিক £ পরাবিজ্ঞান প্রীকালীকুফ বন্দ্যোপাধ্যায় আত্ব। চৈতন্তের সম্বন্ধ প্রীটক্রোদয় তট্টাচাধ্য দার্শনিক ব্যাখ্য। ডর জীত্রীতিতভূষণ চট্টোপাধ্যায় অস্তিবাদ জ্রীদেবত্রত সিংহ

১৪

ত্$ .

১২শ বর্ষ, ১ম সংখ্যা] েঞ্শন্স [ বৈশাখ ১৩৬২ সাল

সাম্প্রতিক দর্শনচর্চার একটি দিক পরাবিজ্ঞান

শ্রীকালীকষ্ণ বন্দ্যোপাধ্যায়

সাম্প্রতিক দর্শন চর্চার একটি দিক-_-এই আমার আভকের আলোচ্য বিষয়। একটি দিক ৭লতে আমি বুঝছি ঠিক সেই দিকটি, যেটি নিয়ে মামি আলোচন। করব। দর্শন চর্চা বলতে আমি বলব মামারই মত সাধারণ দর্শনের ছাত্ররা যে চর্চা করে থাকেন সেই চর্চা। আর সাম্প্রতিক বলতে বুঝব, আজকের দিনের, সুতরাং সাম্প্রতিক দর্শন বলতে বুঝব, আজকের দিনের আমার মত সাধারণ দর্শনের ছাত্ররা দার্শনিক সমন্থা, ( অর্থাৎ দর্শনের ইতিহাসগত সমস্যা নয়, বা সাধারণ সাংস্কৃতিক সমস্। নয় ) আলোচনার জন্য যে যে যুগের দর্শনের সাহায্য নিয়ে থাকেন সেই সেই যুগের দর্শন। তাই সাম্প্রতিক দর্শন বলতে উপনিষদৃকেও বোঝ! যায়, যদি আজকের দিনের দর্শনের ছাত্ররা তাদের সমন্যার আলোচনার জন্য উপনিষদ্‌ ব্যবহার করেন। তেমনি আবার আমরা মার্কস্বাদও বুঝতে পারিঃ আবার টমাস এঢাকুষ্টনাসের দর্শনও বুঝতে পারি। যাই হোক, এই আমার আঙজ্গকের আলোচ্য। এই আলোচনা, যা] বলেছি তা থেকেই বোঝ। যাবে, সুরু হবে, মান্জকের দর্শনের সাধারণ ছার হতে, এবং তাই কর! হচ্ছে।

আজকের দিনের দর্শনের ছাত্ররা দর্শন চচ1 করতে বসেই যে প্রশ্নের উত্তর পাবার জন্য ব্যাকুল হন, সে প্রশ্নটি হ'ল দর্শন কি? এই প্রশ্নটি, বলার কোন প্রয়োজন নেই, একটি মামুলী প্রশ্ব। এতই মামুলী প্রশ্ন যে পরীক্ষার্থীরাও এই প্রশ্নের উত্তর তৈরী করে, মানে মুখস্থ করে পরীক্ষা! কক্ষে যায়। তবু এই প্রশ্থটিকে আজকের দর্শনের প্রশ্ন বলছি? এরূপ বলার অর্থ এনয় যে আমি প্রশ্নটিকে নিত্য প্রশ্ন বলে মনে করি। কোন প্রশ্ন নিত্য প্রশ্ন কি না বাষে প্রশ্ন নিত্য প্রশ্থাতা .

* আটাধ গিরিশচজ্ ছাআাবালে সারম্বত সম্মেলনে পড়িত ..

দর্শন

সত্যই প্রশ্ন কি না, নিয়ে আমি আলোচনা করব না, বা, বিষয়ে আমার মত যদি কোন মত থেকে থাকে, ত। প্রকাশ করব না। এইটুকু বল্লেই যথেষ্ট হবে বলে মনে হয়, যে অনেক সময় একই প্রশ্নবাক্য বিভিন্ন যুগে উপস্থাপিত হয়, আর তা থেকে আমাদের মনে এই ভ্রান্ত ধারণ জন্ম গ্রহণ করে ঘে একই প্রশ্ন সকল যুগেই উপস্থাপিত হচ্ছে অর্থাৎ প্রঙ্নবাকাটি প্রশ্ন নয়। এই বাক্যটিকে অবলম্বন করে য1 উপস্থিত হচ্ছে তাই প্রশ্ন আর এমনও হতে পারে যে একই প্রসশ্থবাক্যকে অবলম্বন করে বিভিন্ন যুগে বিভিন্ন প্রশ্ন সুধী সমাজের কাছে উপস্থিত হচ্ছে। দর্শন কি প্রশ্নটির ক্ষেত্রে অন্ততঃ একথ! সম্পূর্ণরূপে প্রযোজ্য দর্শনের স্বরূপ নিয়ে আমরা যুগে যুগে মাথা ঘামিয়েছি-_কিস্ত একই প্রশ্ন নিয়ে যে আমরা মাথ। ঘামিয়েছি তা! নয়। এধুগে দর্শন নিয়ে ধার! চর্চা করেন, তারা যখন প্রশ্ন তোলেন দর্শন কি, তখন তার! কোন মামুলী প্রশ্ন তোলেন না। তার! যে প্রশ্ন তোলেন ভার সংক্ষিপ্ত পরিচয় দিয়েই, তাদের দর্শন চর্চার একটি দিকের কথ। বলব।

বর্তমানে বিজ্ঞানের প্রসার প্রতিষ্ঠার কথ প্রায় স্বতঃ সিদ্ধ। কিন্ত এই বিজ্ঞানের বয়স কত? গ্যালিলিওর তিরোভাব হয়েছে ১৬৪২ খুষ্টাকে, আর বেকনের নোভাম বার হয়েছে ১৬২০ থুষ্ঠাকে আজ হল ১৯৫৮। বিজ্ঞানের বয়স চারশ বছরের বেশী নয়। কিন্ত দর্শন তার বয়সের গাছ পাথর নেই। তবু বিজ্ঞান যে ফল প্রসব করেছে, তার সঙ্গে দর্শনের তুলন! করার প্রশ্বই ওঠে ন1। দর্শন প্রবীণ, প্রাচীন, বনেদী-_কিস্ত কোন সর্ববাদিসিদ্ধ বাক্য প্রদানে অক্ষম। বিজ্ঞানের সব বাক/ই যে সর্ববাদিসিদ্ধ তা নয়। মতানৈক্য বিচ্তানেও আছে। কিন্তু কি ভাবে এই অনৈক দূর করা যেতে পারবে, কিরূপ তথ্য সংগ্রহ করতে পারলে, কোন বিবাদাস্পদ বাক্য নিধিবাদ হতে পারবে নিয়ে কোন অনৈক্য নেই। দর্শনে শুধু অনৈক্যই নেই, অনৈক্য দূর কেমন ভাবে করব, তা নিয়েও কোন এক্য নেই। তাই যুগে ধার। দর্শন চর্চা করে থাকেন, তার! প্রশ্ন তোলেন, দর্শন কেমন জিনিষ? একি শ্বভাবতঃ, স্বরূপতঃ নিবৃত্বিশৃন্ঠ সপিল তর্ক-কৃট-প্রবাহ মাত্র ?

প্রশ্নটি অর্থাৎ এই আকারের প্রশ্নটি যুগের দর্শনের ছাত্ররাই তুলছেন না। আগেও তোল হয়েছিল। বিজ্ঞান চর্চার প্রথম যুগে দেকার্তে প্রশ্ন তুলেছিলেন। লক, হিউম, কান্ট এরাও তুলেছিলেন। তবু তাদের প্রশ্ন হতে যুগের প্রশ্ধের পার্থক্য আছে। পার্থক্যের নির্দিষ্ট রূপটি পরে বলব। এখন কেবল এটুকুই বলি যে সাংকেতিক ন্যায় 9510011০ [.০981০, প্রচলিত হবার পর থেকেঃ বিজ্ঞানের প্রকৃতি সম্পর্কে অর্থাৎ বৈজ্ঞানিক বাক্য সম্পর্কে আমর বর্তমানে

সাম্প্রতিক দার্শনচচণর এক দিক £ পরাবিজ্ঞান

অনেক কথ নৈয়ায়িক রীতিতে বলতে পারি, আর সেজন্য বিজ্ঞান হতে দর্শনের পার্থকাও আমরা নৈয়ায়িক রীতিতে দেখাতে পারি। এটা আগের দিনে সম্ভব হত না। তাই দর্শনে আমরা যে সর্ববাদিসিদ্ধ সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠী করতে পারছি না, বা কোন সিদ্ধান্তকেই নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে না পারছি প্রতিষ্ঠা করতে, না পারছি খণ্ডন করতে, অথবা! যে কোন দার্শনিক বাক্য তার পরিপূর্ণ বিরোধী বাক্যকে যে প্রমাণ করতে পার! যায়, দার্শনিক সিদ্ধান্তই মাত্রই ষে সংপ্রতিপক্ষিত, এই সব অভিযোগই আমর! পুর্বে আনতাম। কিন্তু দার্শনিক বাক্যগুলির নৈয়ায়িক মর্যাদা কেমন, ত৷ বলতে পারতাম না। তাই বিজ্ঞান চার প্রথম যুগে, বিজ্ঞানের অগ্রগতির পাশে দর্শনের গতিহীনতাকে স্থাপন করে, প্রশ্ন আমর! করেছি, দর্শন কি সম্ভব বা দর্শন কেমন জিনিষ? আজকেও আমর] প্রশ্ন করছি। কিন্তু প্রশ্ন উত্থাপিত করছি ভিন্নভাবে__-তাই প্রশ্বটি ঠিক এক নয়। আগে আমরা প্রশ্নের যে উত্তর দিতাম, এখন আর সে উত্তর দেওয়া! যাবে না। প্রশ্শের প্রশ্নসত্তা উত্তরসত। নিরূপিত, উত্তরসন্ত পুথক হচ্ছে__অতএব প্রশ্নসত্তাও পৃথক ; আমার বক্তব্যকে এভাবে যদি কেউ সাজিয়ে নেন, তাহলে আমি কোন আপত্তি করব বলে মনে হয় না।

যাই হোক, আজকের দিনে যখন আমর! দর্শন চর্চা করতে যাই তখনই বিজ্ঞানের সঙ্গে তার তুলন1 না! করে পারি না। এর কারণ এই নয় যে আজকে বিজ্ঞান পুর্ণ মর্যাদায় প্রতি'্টত। তাই যদ্দি কেবল এই তুলনার হেতু হত, তাহলে কাব্য চর্চা.করবার সময়ও আমর! তুলনা! করতাম, এবং কাব্যের উক্তিকে বৈজ্ঞানিক মাপ কাঠিতে মাপবার চেষ্টা করতাম। কিন্তু তা আমর কর্রিনা। কবি: মানসে বিজ্ঞানের প্রভাব থাকে-_সে প্রভাব কাব্যে ধর! পড়ে, ছাপ রাখে তবু কাব্য কাব্যই থাকে। কবিকর্ম বিজ্ঞানী কর্মগোষ্ঠীর অস্তভূ্ত হয় না। আমর কাব্য চর্চাকে বিজ্ঞান চর্চার পাশে রেখে তার ব্বরূপ প্রয়োজন নির্ণয় করতে বলি ন।। তাই বিজ্ঞ/নের সাধারণ মর্ধাদা থাকার জন্যই ব। ব্যবহারিক, তান্ত্রিক, সাংস্কৃতিক নকল ক্ষেত্রেই তার উচ্চ আসন থাকার জন্যই যে আময়। দর্শন চর্চাকে বিজ্ঞান চর্চার সঙ্গে তুলন। করি, তা নয়। তুলনার হেতু বিজ্ঞা নর গজ্জল্য দর্শনের রিনি নয়। অন্ত হেতু রয়েছে। .

সেই হেতুটি খুঁজতে হলে দর্শন বা 21১11০8021)র উৎস সন্ধান করতে হবে। আমাদের ভারতবর্ষে দর্শনের উদ্ভব হয়েছিল তত্বজ্ঞান লাভ করে মোক্ষ লাভের জন্য অর্থাৎ দর্শনের মূল উদ্দেশ্ট ছিল মোক্ষ। শান্জের প্রকৃতি, অধিকারী ছিলেন মুযুক্ষুর। |... যনি দেখা। যেত যে তত্বজ্ান লাভ না করলেও মোক্ষ লাভ হয়, .

শীশনি

'ধ। তত্বজ্ঞান মোক্ষ লাভের সহায়ক নয়, বরং পরিপন্থী, ঘা, তত্বজ্ঞান লাভ অপেক্ষা সহজ কোন পথ মোক্ষ লাভের জাছেঃ তাহলে ভারতে আমর! দর্শন চর্চা করতাম কি না, বিষয়ে আমার সন্দেহ আছে। 'সন্দেহ আছে, ইচ্ছা করেই বলছি। অর্থাৎ আনার বিশ্বাস আছে যে আমাদের অর্থাৎ মননশীল ব্যক্তি মাক্জেরই একটি দার্শনিক সন্ত! আছে, আর তাই দর্শন যদ কোন প্রয়োজন নির্বাহ নাও করে তাহলেও আমরা দর্শন চর্চ। করব। দার্শনিক সততায় সন্তাবান্‌ ব্যক্তি যে প্রাচীন ভারতবর্ধে ছিলেন না ত। নয়। এমন কি ভারতে যত দর্শনের গ্রন্থকার ছিলেন, তার! সকলেই যে মুযুক্ষু ছিলেন, অথব। মোক্ষের উদ্দেশ্যে দর্শন চর্চ। করতেন, এবং বিশুদ্ধ দর্শন টচণয় রস পেতেন না, ত1 মনে হয়না বৈশেষিক দর্শনের স্ুত্রকার যে অস্ভ্যদয় সিদ্ধির কথ। বলেছেন, তার গভীর তাৎপর্য আছে বলে মনে হয়। তাই "সন্দেহ আছে, কথাটি বলেছি যাই হোক, আমরা এদেশে দর্শন বলতে যা বুঝেছি, তার সঙ্গে মোক্ষের যে ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ আছে, অর্থাৎ সেইরূপ সম্বপ্ধ যে আছে, যেরূপ সম্বন্ধ 21১10934117)র নাই -একথ। নির্ভয়ে বলা যেতে পারে। 01১7195921১) মুলে রয়েছে বিচারভিত্তিক. ন্যায়ান্্রগ, তকফিত বিশ্বব্যাখ্যা লাভের প্রয়স। আমাদের সন্ভতার যে অংশ আমাদের বিজ্ঞানী করে, পেই অংশই আমাদের দার্শনিক করেছে। বিজ্ঞ'নের জ্ঞাতি দর্শন তাদের হাড়ি এক। তাই দর্শনের সঙ্গে বিজ্ঞানের তুলনা ন। করে মামর। পারি না। ইংরাজী ভাষা আমাদের রাষ্ট্রভাষা বা জাতীয় ভাষ। করবার প্রস্তাবে মামর। তত বিচলিত হই না, যত বিচলিত হই, আমাদের বাংলা ভাষারই মত একটি প্রাদেণিক ভাষাকে করব।র প্রস্তাব করলে এক জ্ঞ।তির উন্নতি হলে অপর জ্ঞাতির উন্নতির অভাব চোখে পড়বেই। বিজ্ঞানের গ্রসার হাই দর্শনের সঙ্গে তার তুলনার হেতু বিজ্ঞনকে এগিয়ে যেতে দেখে তাই দর্শনের ছাত্রকে জিজ্ঞাস! করতে হয়, দর্শন মাগেও যেখানে ছিল এখনও সেখানে আছে, বিজ্ঞান কিন্ত এগচচ্ছে, এর হেতু কি? বিজ্ঞান কি যেরূপ প্রশ্নের উত্তর পাওন। ঘায়, সেরূপ প্রশ্বের উত্তর দেয় বলেই এত সাফল্য লাভ করেছে? অথবা যেরূপ পদ্ধতি: প্রয়োগ করে প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যেতে পারে, মেরপ পদ্ধতি প্রয়োগ করেছে বলে, এত সাফল্য পেয়েছে ? সংক্ষেপে বিজ্ঞানের অগ্রগতির মূলে আছে কি তার বিষয়বন্ত্র, অথব! পদ্ধতি, অথব। উভয়ই নিরূপ্য নিরূপকরূপে, এবং দর্শনের গতি, হীনতার মূলে আছে কি এদের ন্যতমের অভাব ?

আগেই বলেছি প্রশ্ন এক্ট প্রথম তোল হচ্ছে না, যদিও নবরীতিতে হচ্ছে এখন আমার কর্তব্য এই নবরীতিটির একটি সংক্ষিপ্ত পরিচয় দেওয়!। নবরছিতে

সাম্প্রতিক দর্শনচচণর একটি দিক £ পরাবিজ্ঞান

বিজ্ঞান বলতে এক রকম ভাষা ব্যবহার বোঝা হয়। অর্থাৎ কোন বৈজ্ঞানিক বাক্যের বৈজ্ঞানিকত্ব নির্ভর করে, বৈজ্ঞানিক বলে স্বীকৃত বাক্য গোষ্ঠীর মধ্যে স্থান লাভের উপর, সত্য বা মিথ্য। হওয়ার উপর, 0৮315 বা 015 19 1৮00 0185 08585 হৃওয়র উপর, তদ্‌ৃবতি তৎপ্রকাঁরক ব! অতদ্বতি তত্প্রকারক জ্ঞানের বাণীরূপ হওয়ার উপর নয়। অবশ্ট আমর! মনে করি ষে বৈজ্ঞানিক বলে স্বীকৃত বাক্যগোষ্ঠীর মধ্যে স্থান পেলে বাক্যটি সত্য হতে পারে-__কিন্তু হতে পারে এই মাত্র; হবেই ব! হয়েছে নয়। এমনও অনেক বাক্য আছে যা নিউটনের সময়ে পদার্থ বিজ্ঞানের ষে বাক্য- গোষ্ঠী ছিল তাতে বিশেষ মর্ধাদার সঙ্গে স্থান পেত; কিন্তু পরবর্ত যুগের পদার্থ বিজ্ঞানে পায় নেই। আর বর্তমানে নিউটনের সময় যেমন একটি নিদিষ্ট বাকাযগোষ্ঠী পদার্থ বিজ্ঞানের ছিল, তেমন €নেই ; এবং জীববিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান প্রভৃতি বিজ্ঞানে পদার্থ বিজ্ঞানে যাও বা আছে তাও নেই। সুতরাং কোন একটি বাক্য যদি বৈজ্ঞানিক বলে গৃহীত বাক্যগোষ্ঠীর মধ্যে স্থান না৷ পায়, আমরা সে বাকাকে সন্দেহের চোখে দেখব, বৈজ্ঞানিক আখা। দেব না; কিন্তু তাকে মিথ্যা বলতে, অন্ততঃ এই হেতৃতে, মিথ্যা বলতে পারব না। কারণ বৈজ্ঞানিক বলে ষে বাক্য- গোষ্ঠীকে ম্বীকরে করেছি, ত। বৈজ্ঞানিক বটে, কিন্তু সতা কি? প্রশ্নের কোন উত্তর না দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ কোন বাক্য সত্য আর কোন বাক্য মিথ্য। তা নির্ণয় করবার কোন মাপকাঠি নেই। যে মাপকাঠি আছে তার দ্বারা বাক্যটি বৈজ্ঞানিক কি না এই বলা বার কথাটিকে একটা স্থুল দৃষ্টান্তের সাহায্যে বলতে বলতে পারি। দৃষ্টাস্ত দেওয়ার উদ্দেশ্য এই নয় ঘষে উপরে সামান্যমুখী শবের দ্বারা যে কথ। বল! হয়েছে তা অস্পষ্ট বলে বিশেষমুখী শকের ছার! তাকে মূর্ত করে তোল! উদ্দেশ্য আমার নয়। কারণ ওপরে যা বলেছি, তা অস্পষ্ট নয়_ব্মার ছবির সাঙ্কায্যে একে স্পষ্ট করতে গিয়ে অস্পষ্ট করে ফেলতে পারি তবু দৃষ্টান্তটি দিচ্চি--উপভোগা হবে বলে, আর অস্পষ্টকে স্পষ্ট না করলেও, স্পষ্টকে অস্পঞ্ঠ ন! করে অধিক স্পষ্ট করবে বলে। যাই হোক, আমার দৃষ্টাস্তটি এই £₹ আমরা প্রায়ই অসুখে ভুগি। অনেক ডিগ্রিধারী, মোটা মোটা ফি অরেশে গ্রহণকারী, মিষ্টভাষী ডাক্তারের কাছে ষাই। (ত্ঠাদের নিন্দে করছিনা--ব। তাদের বিরুদ্ধে কোন প্রোপাগ্যাণ্ডা করছি না ) কিন্তু অনেক সময় আমাদের অন্ুথ বেড়ে যায়, ব্যাধির চেয়ে আধি হয়ে যায় বড়। সেই সময়ে হয়ত, যদি বরাতে মৃত্যু না লেখ! থাকে, গৃহিনীর বাল্যসখীর আপন পিস্শ্বাশুড়ীর ছোট জায়ের বকুলফুলের দেওয়া কোন মুষ্টিষোগ, কা জলগড়া, ব! ঝাড়ফুঁক, রকম কিছু একটা মিলে যেতে.

দর্শন

পারে, আর বরাতে মৃত্যু নেই, বা এই বিচিত্র ব্যনস্থাতেই সারবার কথ বিধাতা- পুরুষ সুতিক। গৃহে কপালে লিখে গিয়েছিলেন বলে, একেবারে সেরে যেতে পারি। তবু যে চিকিৎস! সারাল তা৷ চিকিৎস। নয়, আর যে চিকিৎস। মারতে বসেছিল তাই চিকিৎসা তেমনই বৈজ্ঞানিক বাক্যগে্ীতে স্থান পায় ন। যে বাক্য তা সত্য হলেও গ্রাহা নয়__বৈজ্ঞানিক নয়, এবং বৈজ্ঞানিক বাকাগোষ্ঠীতে স্থান পায় যে বাক্য তা মিথ্য! হলেও গ্রাহ্য বৈজ্ঞানিকতা সত্যতা নয়, ভাষাতাস্ত্রিকত। ভাষ।, প্রাস্থানি- কতা। বিজ্ঞান এক রকম ভাষা ব্যবহার এই ভাষা ব্যবহার রকমের হতে পারে কারণ যে সংকেত সমূহের বিশ্যাস ভাষ। সেই সংকেতগ্লি মনুভূত তথ্যকে, জাগতিক ঘটনাকে সংকেতিত করতেও পারে, আবার নাও করতে পারে যে ভাষার সংকেতগুলি জাগতিক ঘটনাকে সংকে তিত করে না, সে ভাবধাতন্ত্রটি নিছক 19119] আকারগত, তার আছে কেবল 310: বিশ্লেষণপূরক প্রাপ্ত বাকোর প্রাপ্তি প্রণালী কিন্ত যে ভাষার ংকেতগুলি জাগতিক ঘটনাকে, অনুভূত তথ্যকে সংকেতিত করে সেই ভাষায় নৈয়ায়িক রীতিতে, 00017] 08100109-এর সাহায্যে বাক্য উৎপাদন গ্রণালীর অতিরিক্ত কিছু থাকে, থাকে অনুভবের সাহায্যে সংকেতসমূহকে বোঝবার নিয়ম, 55181700 10155 1 গণিতের ভাষ। প্রথম প্রকারের, পদার্থ বিজ্ঞানের ভাষ৷ দ্বিতীয় প্রকারের প্রথম শ্রেণীর বিজ্ঞান (০0781 5502] 1 এখানে কোন বাক বৈজ্ঞানিক মর্ধাদায় প্রতিষিত বাক্যগোষ্ঠীতে স্থান পাবে কি না তা নিণীত হবে বিরোধ বাধক নীতির সাহায্যে কিন্ত দ্বিতীয় শ্রেণীর বিজ্ঞানে এর অতিরিক্ত কিছুর প্রয়েজন। এখানেও নৈয়ায়িক পদ্ধতি প্রযুক্ত হয়, কিন্তু অনুভবও প্রয়োজন অনুভবের সাহায্যে আমরা সরলবাকাগুলির মূল্য নির্ণয় করে নিই, তারপর নৈষায়িক পদ্ধতি প্রয়োগ করে নির্ণয় করি মিশ্র বা যৌগিক বাক্যগুলির মূল্য। যেমন, মনে কবা যাক, হরির মাথায় টাক আছে, এবং তার মুখে দাড়ি থাকে, বাক্য ছুটি সরল বাক্য। তারপর নৈয়ায়িক পদ্ধতি, প্রয়োগ করে আমরা অনেক যৌগিক বাকা অধব। এদের উপর নির্ভর করে এমন বাক্য রচনা করে নিতে পারব। যেমন, হরির মাথায় টাক নাই, তার মুখে দাড়ি নাই, হরির ম।থায় টাক এবং মুখে দাড়ি আছে, যদি হরির মাথায় টাক থাকে তাহলে তার মুখে দাড়ি আছে, হয় হরির মাথায় টাক আছে অথবা তার মুখে দাড়ি আছে, হরিব মাথায় টাক আছে কিন্ত মুখে দাড়ি নাই ইত্যাদি। এর পর অনুভবের সাহায্যে আমর! সরল বাক্য ছটির যাথার্থ/ নির্ণয় করে দেখতে পারি, এবং তারপর আর অনুভবের

সাম্প্রতিক দর্শনচচণর একটি দিক £ পরাবিজ্ঞান

সাহায্য না নিয়েই অন্য বাক্যগুলির মূল্য কেবল হ্যায় প্রয়োগ করেই স্থির করে ফেলতে পারি অত এব দেখ! যাচ্ছে যে বৈজ্ঞানিক বাক্য ছু রকমের, এক রকম আকার সর্বস্ব, এবং অন্য রকম অনুভব সাপেক্ষ, অনুভবের সাহায্যে পরীক্ষণ যোগা। অনুভবের সাহায্য পরীক্ষণ যোগ্যতার একটি বিবৃতি আমর দিয়েছি এই বিবৃতিটি ভিৎগেনষ্টাইনের ট্র্যাকৃটেটাস্‌ গ্রন্থ অনুষায়ী। এই বিবরণের মধ্যে অনেক রকম ক্রটি বর্তমানে অনেকে লক্ষ্য করেছেন, তাই এর অনেকাশে পরিবর্তন করা কয়েক যেমন যে সরল বাক্যের কথা এই বিবরণে বলা হয়েছে সে রকম সরল বাকা অঙ্গীকার করতে অনেকেই চান না। তাই তার যৌগিক বাকাকে সরল বাকোর সাহাষ্যে অনুভবে রূপান্তরিত করে, তার আমুভাবিক মূল্য নির্ণয় করার কথা বলেন না; বা অনুভবের সাহায্যে পরীক্ষণ যোগ্য, এই কথাটিকে এভাবে বোঝেন না। তারা যা! বোঝেন তা সংক্ষেপে বলতে চাইলে বলতে হয় যে বৈজ্ঞানিকদের একটি সমাজ আছে, আর এই সমাজে এক একটি ভাষাতন্ত্র “এক এক যুগে অনুভবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার মর্যাদ। পায়। সুতরাং অনুভবের সাহায্যে পরীক্ষণ যোগ্য হওয়ার অর্থ হল এই ভাষাতস্ত্রের অস্তভূক্ত হওয়ার যোগ্যতা। যাই হ'ক বৈজ্ঞানিক বাক্য হু রকমের-_ আকার সবন্ব,ৎ যেমন নৈয়ায়িক, গাণিতিক এবং অন্থভবের সাহায্যে পরীক্ষণ যোগ্য যেমন পদার্থ-বৈজ্ঞানিক। এখন, এই ছু রকমের বাক্যের মধ্যে প্রথম রকমের বাক্যে জগৎ সম্পর্কে কোন কথাই বল হয়ন1। এরা 9০09৪! নয়, তথ্য সম্পফিত নয়। তথ্য সম্পক্কিত বাক্য, দ্বিতীয় রকমের বাকা। ম্ুুতরাং আমরা এই নিয়ম করতে পারি যে তথ্য সম্পকিত বাক্য অনুভবের সাহায্যে পরীক্ষণযোগ্য বাক্য। অথবা এমন কোন বাকা যদি থাকে যা তথ্য সম্পফিত, কিন্তু অনুভবের সাহায্যে পরীক্ষণযোগ্য নয়, তাহলে সে বাক্যকে প্রকৃত পক্ষে তথ্য সম্প্ষিত বল। যাবে না, এমন কি অর্থহীন বলতে হবে।

এই ভাবে তথ্য সম্পকিত বাক্যের নিয়ম স্থাপন করে, আমর দর্শনের বাকাগুলির ম্বরূপ যুগে নির্ণয় করতে যাই, আর সেইজন্যই প্রশ্ন করি দর্শন কি? যুগে ধার! দর্শন চচ করেন, তর! যখন প্রশ্ন তোলেন দর্শন কি, তখন তার এই প্রশ্নই করেন, দর্শনের বাক্যগুলি কেমন? এর! কি মাকার সর্বস্ব? অথবা. এর তথ্য সম্পক্ষিত ? আগে আমরা তথ্য সম্পঞ্ষিত বাক্য সম্পর্কে যা বলেছি তা থেকে বিন। আয়াসেই বুঝতে পারা যাবে যে দর্শনের বাকাগুলি তথ্য সম্পকিত নয়। অর্থাৎ তথ্য সম্পঞ্চিত হওয়ার অর্থ, অনুভবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া, অনুভবের সাহাযো নিরাকৃত হওয়ার যোগ্যত। সম্পন্ন হওয়া» সমাজসিদ্ধ আম্ভবিক বাক্য”

দর্শন

গোষ্ঠীর অন্ততূক্ত হওয়ার মত হওয়া আবার অনুভবের সাহায্যে নিরাকৃত হওয়ার যোগ্যতা সেখানেই আছে আমরা বলতে পারি, যেখানে কোন বাক্য খণ্ডন করবার জন্য, অপর পক্ষ দলনের ভন্য, পরীক্ষাগারে, প্রয়োগশালায়, নিয়ন্ত্িত পরিবেশে তথা সংগ্রহ আছে। দর্শনে এই জিনিষটি নেই। আমরা এমন কোন দার্শনিকের কথা জানি ন৷ যিনি তার সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করবার জন্য বা বিরুদ্ধ সিদ্ধান্ত খগুন করবার জন্ত তথ্য সংগ্রহ করেছেন অনুভবের সঙ্গে ষে রকম সম্পর্ক থাকার জন্য আমর! পদার্থ বিজ্ঞানের বাকাগুলিকে তথ্য সম্পঞ্চিত বলতে পারি, দর্শনের বাক্যগুলির আনুভবের সঙ্গে সে রকম সম্পর্ক ন। থাকায় এদের আমর! তথ্য সম্প্িত বলতে পারি না। তেমনি সমাজসিদ্ধ বাক্যগোস্টীর অস্তভূক্ত হওয়ার কথা তখনই ওঠে, যখন সমাজ বলে একটা কিছু জাছে। বৈজ্ঞানিকের সমাজ আছে, সুতরাং সামাজিক বাক্যগোষ্ঠীত মাছে। কিন্তু দার্শনিকের কোন সমাজ নাই দর্শন চচ৭ যারা করেন, তারা সাধারণতঃ বিশেষ নিরীহ, মোলায়েম, মোটামুটি রসিক হন; কিছু কিছু সামাজিক গুণও তাদের থাকে একেবারে বেসামাজিক তার] নাও হতে পারেন। কিন্ত তবুও দার্শনিক সমাজ বলে কোন সমাজ নেই। দার্শনকরা নিজে নিজে কথা বলেন। একথা সত্য যে, তারা বই পত্র লেখেন, সভ। সমিতিও করেন, এমন কি তেমন কোন পেশাদারী রাজনৈতিক নেতার পাল্লায় পড়ে আমাদের দাবী মানতে হবে বলে রাস্তায় শোভাযাত্রাও করতে পারেন, তবু তদের কোন সমাজ নেই। সম।জ থাকতে হলে প্রথমেই এমন একটি ভাষা থাক চাই যা সার্বজনীন। আর দর্শনে এই সাবজনীন ভাষাই নেই দীর্শনিকে দার্শনিকে ততক্ষণই কথা চলে, যতক্ষণ অদার্শনিক, লৌকিক ভাষ। তাঁর। ব্যবহার করেন এবং যখনই তার! লৌকিক ভাঁষ। ত্যাগ করে নিগ্গ নিজ ভাষ। ব্যবহার করেন, তখনই যন্তামতং তল্ত মতং মতং যস্ত নবেদ সঃ। তাই দার্শনিক বাকাগ্চলিকে তথ্য সম্পকিত বলতে আমর পারি না। এজন্য যে এদের আকার সবন্ধ বলব তাও হবে ন। কারণ তথ্য সম্পক্ষিত হওয়া এদের অভিপ্রেত। 'মআার আকার সর্বস্ব ভাষাতন্ত্র, যেমন ন্যায় বা গণিত, ষে কাজ করে. যেমন বিভিন্ন বাক্যের প্রসক্তির সম্পর্ক নির্ণয়, যৌগিক বাক্যকে সরল বাক্যে রূপাস্তরণ ইত্যাদি, কাজও দর্শনের বাক্যের দ্বার হতে পারে না। অতএব, দর্শনের বাক্যগুলি ঘরেও নহে, পারও নহে, আকার সবন্বও হে, তথ্য সম্পকি তও নহে, এবং এই যুগসন্ধিক্ষণে প্রশ্ন কে ডেকে নেয় তারে?

এই প্রশ্নটি এযুগে ধীর! দর্শনের চচ৭1 করেছেন, তাদের মনে প্রথমে আসে। এর উত্তর কি দেন তারা? এক উত্তর দেন না, অনেক উত্তর দেন, অর্থাৎ

সাম্প্রতিক দর্শনচচণর একটি দিক : পরাবিজ্ঞান

বিভিন্ন সম্প্রদায় বিভিন্ন উত্তর দিয়ে থাকেন। এই উত্তরগুলির একটি সংক্ষিপ্ত পরিচয় দিচ্ছি। তার আগে, 105? 01558105 বলে যে কথাটি পাশ্চাত্য দর্শনে প্রচলিত আছে, তার সম্পর্কে কিছু বলতে হয়। কথাটি আমরা পেয়েছি এরিইঈটলের গ্রস্থাবলীর এক সম্পাদকের কাছ থেকে তিনি এই কথাটি শাস্ত্রীয় বিষয় বাচক কথারূপে ব/বহার করেন নাই, ব্যবহার করেছিলেন, এক খগ্ু গ্রন্থের পরিচায়ক নামরূপে। কিন্তু কালক্রমে নামটি শাস্ত্রীয় বিষয়বাচক নাম হয়ে গেছে, আর এই রূপান্তরের হেতু হল, ওই গ্রন্থখণ্ডে এমন কয়েকটি বিষয় নিয়ে এরিষ্টটল আলোচন! করেছিলেন য! নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন তার পরে আরও অনেকে অনুভব করেছিলেন, এবং সেই আলোচ্য বিষয়ের শান্ত্রীয় বিষয়বাচী রূপে একটি নামও তার! চেয়েছিলেন। মেট ফিজিকৃস্‌ তাই চলে গেছে। যাই হোক, এই শাস্ত্রের বিষয় হল £ শুদ্ধ সত্তা, ঈশ্বর এবং বিজ্ঞানের পৃর্বস্বীকৃতি। শুদ্ধ সত্তা, বলতে বোঝ হল, কোন বিশেষ সত্তা, যেমন জড়সত্তা ব৷ প্রাণসত্তা, আত্মিক সত্ব নয়, সর্ববিশেষণ বজিত শুদ্ধ সত্তা ঈশ্বর বলতে কি বোঝ! হল, তা আর বলবার প্রয়োজন নেই, তবে এটুকু বলতে হবে যে অনেকে ঈশ্বর বিশুদ্ধ সত্তাকে এক বলে মনে করলেন। আর বিজ্ঞানের পূর্বন্বীকৃতি বলতে এই শুদ্ধ সত্তাও বোঝ! হল, আরও বোঝ! হল বিশেষ বিশেষ বিজ্ঞানগুলি তাদের আলোচনা করবার জন্য যে সব মূল কথ।, তত্ব নীতি, ০965৮০1৮ [011001015 মেনে নেয় তাদের আলোচনা এই শাস্ত্রের মারও নাম এই জন্য হয়ে গেল, বিজ্ঞানের বিজ্ঞ।ন £ অর্থাৎ বিজ্ঞানের পুর্বন্বীকৃতির বিশ্লেষণ শাস্ত্র করবে এবং শুদ্ধ সন্তার স্বরূপ নির্ণয় করে বিজ্ঞান সত্তার যে খণ্ড খণ্ড চিত্র অস্কন করে থাকে, তাকে একক্সিত করে এক মহাচিত্র রচনা করবে। আবার ধর্মচেতনায় ঈশ্বরকে সর্বব্যাপক বল। হয় বলে, এই মহাচিত্র ঈশ্বপ্দচিত্রই হবে, এবং আমাদের আধ্যাত্মিক জীবন, নীতিচেতনা, শিষ্পচেতন।, এদের স্বরূপ এই শাস্ত্র করবে।

মেটাফিজিকৃস্‌ বলতে সাধারণতঃ কি বোঝা হয়, তা দেধা গেল। এখন প্রবন্ধের এতক্ষণ পর্যস্ত দর্শন কথাটি এই মেটাফিজিক্স্‌ অর্থেই প্রযুক্ত হয়েছে। মেটাফিজিক্‌সকথ।টিকে অনেকেই তত্ববিদ্া বলে অনুবাদ করেছেন, পরাবিজ্ঞানও বলা যায়। সুতরাং এখন প্রশ্ন হল পরাবিজ্ঞানের স্বরূপ কি, অথবা টানা সম্ভন কি? |

পূর্বেই তথ্য সম্পর্চিত বাক্য সম্পর্কে ষ৷ বলা হয়েছে, তা হতে বোঝা গেছে যে বিজ্ঞানের বাক্যের মত পরাবিজ্ঞানের বাক্য তথ্য সম্পক্ষিত নয়।. আবার এর,

১৯ দর্শন

বাক্যগুলি আকার সর্বস্ব নয়। তবে এগুলি কোন জাতের বাক্য? যুগেক এক সম্প্রদায়ের দার্শনিকের মতে পরাবিজ্ঞানের বাক্যগুলি বাকাযই নয়, অথবা! অর্থহীন বাকা, অথব। বিজ্ঞানের বাক্যের মত তথ্য সম্পফিত নয়, কাব্যের বাকোর মত বাক্যকার প্রকাশক অর্থাৎ বাক্য-_বৈজ্ঞানিক বাক্য, অর্থপূর্ণ বাক্য ছু প্রকারের পরাবৈজ্ঞানিক বাক্যগুলি কোন প্রকারেরই নয়, সুতরাং বাক্য ব৷ অর্থপূর্ণ বাক্যই নয়। এগুলিকে দেখতে বিজ্ঞানের বাক্যের মত কিন্তু আসলে এর কাব্যের উক্তির মত। কবি যখন বলেন: কৃষ্ণকলি আমি তারেই বজি, কালো তারে বলে গায়ের লোক. তখন কৃষ্চকলির সম্পর্কে কোন সংবাদ তিমি দান করেন না। যে সংবাদ তিনি দান করেন, ত1 হল নিজের সম্পর্কে-_ একদিন তিনি যে ময়ন। ডাঙার মাঠে দেখে একটি বালিকাকে মুগ্ধ হয়েছিলেন, এই সংবাদ তেমনই পরাবৈজ্ঞানিক বাকাগুলি তথাবিষয়ক কোন সংবাদ দেয় ন৷। অন্ততঃ পক্ষে বাকাগুলি যে তথ্য- বিষয়ক সেই তথ্যসম্পর্কে কোন সংবাদ দেয় না। 'এরা যে সংবাদ দেয় তা হল, পর1- বিজ্ঞানীর মানস সম্পর্কে কাব্যোক্তি সত্য কি মিথ্যা, তদৃবতি তৎপ্রকারক, কি অতদ্‌ বতি তত্প্রকারক প্রশ্ন অবান্তর | পরাবিজ্ঞানের বাকাগুলিও তাই যথার্থ দর্শনে বিজ্ঞানের পূর্বন্থীকৃতিগুলি আলোচিত, বিশ্লেষিত হয়; এবং বিভিন্ন বিজ্ঞানের বাক্য- গুলিকে তন্ত্রবন্ধ করে, পদার্থ বিজ্ঞানের ভাবায় প্রকাশ করবার চেষ্টা করা হয়। পরাবিজ্ঞান দর্শন নয়।

তাহলে পরাবিজ্ঞানকে নিয়ে আমরা কি করব ? এদের মধ্যে কেউ বলেন, যে এর বাক্যগুলি যে অর্থহীন, এই আমর] অর্থপূর্ণ বাক্যের সামান্ নিয়ম প্রতিষ্ঠা করে দেখিয়ে দেব কেউ বলেন তা সম্ভব নয়, কারণ এই. সামান্থ নিয়ম যে সব বাক্যের সাহায্যে প্রতিষ্ঠিত হবে সে বাকাগুলিও এই: জাতীয় 'বাক্যই হনে। স্থতরাং যখন বিশেধ বিশেষ পরাবৈজ্ঞনিক সমস্তা। উত্থাপন করা হবে, তখন আমরা সেই সমস্যা বাক্যকে বিশ্লেষণ করে দেখিয়ে দেব যে ভাষার অপব্যবহারের জন্যই এই এই- সমস্যা উঠছে, সমস্যাটি প্রকৃতপক্ষে সমস্যা নয়। এইভাবে 41580155 কয়ে ৪91৬5 করব। আবার কেউ কেউ বলেন আসাদের অবচেতন মন এখানে কাজ করছে আমর! ঘে ভাবা ব্যবহারের অধীন হয়ে যাই, তার কারণ অধচেতন মনের ক্রিয়। তাই মনোবিজ্ঞানীরা যে পদ্ধতিতে উদ্বযুদের মনোবিশ্লেষণ করে তাদের বাতিক দূর করে থাকেন, আমরাও সেই রকম পদ্ধতি প্রয়োগ করে পরাবিজ্ঞান নামক বাতিক দূর করে থাকেন, আমরাও সেইরকম পদ্ধতি প্রয়োগ করে পরাবিজ্ঞান নামক বাতিক ঘুর করব। আবার অনেকে বলেন যে পরাবিজ্ঞানের জীবনের সঙ্গে এমন নিবিড়

সাম্প্রতিক দর্শনচচণার একটি দিক £ পরা বিজ্ঞান ১১

সম্পর্ক আছে-ষে একে বিশ্লেষণ পৃর্বক-বাতিল করে দেওয়? উচিত হবে না। আমাদের এরযুক্তিরীতির সঙ্গে পরিচিত হতে হবে। দেখতে হবে যে এক এক দর্শনৈ, যে এক একটি মূল উপম! থাকে তা৷ কেন থাকে, এবং তার নৈয়ায়িক আচরণই- বা কেমন। আরও অনেকে বলেনঃ যে পুর্বে আমরা যেভাবে তাৎপর্ধপূর্ণ বাক্যগুলিকে ভাগ করেহি, সেভাগ অসম্পূর্ণ আসলে; বিভাগের ক্ষেত্রে 060611771758 0, অবচ্ছিন্ন দিত বাকোর কথাই মনে রাখা হয়েছে নিরবচ্ছিন্ন অদিত বাক্যের কথা, চেতনার গোধুলি ক্ষণে যে বাক্য জন্মগ্রহণ করে সে বাক্যের কথ৷ ভাব৷ হয় নাই পরাবিজ্ঞানের রপ বোঝবার জন্য এই রকমের বাক্যের হ্যায় রচনা করতে হবে। কিন্তু আরও অনেকে আছেন ধারা ভাবেন, এত বাদ-বিবাদ কেবল শুদ্ধসত্তা কথাটি ঠিকমত বুঝতে না পারার ফল। অর্থাৎ শুদ্ধসত্তা বলতে ধদি এক বিমুর্ত মহাসামান্যাকে 809000 071%7581শকে বোঝা হয়, তাহলে পরাবিজ্ঞান, অর্থ।ৎ শুদ্ধসন্ত। বিষয়ক বিজ্ঞান সস্তব হতে পারে না। প্রকৃত পক্ষে শুদ্ধসত্তা কোন মহাসামান্যের নাম নয়, হল সর্বপ্রকার বিশেষণ ত্যাগ করার পরও যে চৈতম্কা- সত্তার অপরোক্ষ অনুভব আমাদের হয় সেই চৈতন্যসত্তার নাম। এই চৈতন্তাসত্ত! একান্ত অবিষয়। বিষয়রূপে এর কোন জ্ঞান হতে পারে না। তাই বিজ্ঞান একে তার আলোচা বিষয় করতে পারে না। মনোবিজ্ঞান নামক বিজ্ঞান এর বিজ্ঞান নয়। এই বিজ্ঞানেও অচেতন স্ুঙ্ক্ম জড়ই বিষয়রূপে আলোচিত হয়ে থাকে পরাবিজ্ঞানেই এই চৈতন্ডসন্তা আলোচিত হয়- তবে বিষয়রূপে নয়। পরাবিজ্ঞ।নে স্বভাবতঃ বিষয়মুখী চিত্তকে অস্তমু খী কর হয়, যাতে এই নিত্যসিদ্ধ স্বয়ং প্রকাশ চেতন্যসত। আবরণ-মুক্ত হতে পারে আরও অনেকে আছেন ধারা মনে করেন পরাবিজ্ঞানকে ব্যবহারিক জীবন হতে দূরে রাখার ফলে, এবং এর সিদ্ধান্তগুলিকে ইতিহাসের পরীক্ষাশলায় পরীক্ষা করতে ন। চাওয়ার ফলেই পরাবিজ্ঞানে আজ এই অন্ুপাদেয় অবস্থার উদ্ভব হয়েছে ম্ুতরাং আমাদের কর্তব্য হল পরাবিজ্ঞানকে আমাদের সামাজিক, রাস্রিক এতিহাসিক চেতনার সঙ্গে তথ প্রতিষ্ঠান আন্দোলনের সঙ্গে নিগৃঢ সম্বন্ধে আবদ্ধ করা। আবার আরও অনেকে আছেন, ধারা বলেন, বিজ্ঞানে যে জাতীয় অন্ুভবকে অবলম্বন কর। হয়, সেই জাতীয় অন্ুভনতট কেবল যথার্থ অনুভব নয়। অন্ত প্রকার অনুভব আছে। কুতিচেতনা, স্থপ্টি অর্থাৎ শিল্পচেতনাও মূল্বান। এদের আলোকে পরাবিজ্ঞানের বাক্যগুলিকে বিশ্লেষণ করলে, এবং নৈয়ায়িকর। যে অন্ুমানকে সামান্থতোদৃষ্ট অনুমান বলতেন সেই অস্থমানের রহস্ত অন্থধাবন করলে দেখতে পাওয়া যাবে, এর। নিরর্৫থক নয়। | 4

১২ দর্শন

এই আমার সাম্প্রতিক দর্শন চ্টার একটি দিকের সংক্ষিপ্ত পরিচয়। পরা- বিজ্ঞানকে কত ভাবে বর্তমানে দেখ হচ্ছে, তা বলেছি এদের মধ্যে কোন দেখা! ঠিক দেখা, বা মর্মগ্রাহী দেখা, তা বলতে চাইলে একটি বিশ্বাকাষ রচনা করতে হয়, যার পাঠক হয়ত কোন কালেই পাওয়া যাবে না। তাই, এবং সময়ের জন্যও বটে, এইখানেই সমাপ্তি রেখ! টানছি।

আত্বা চৈতন্যের সম্বন্ধ

শ্রাচন্দোদয় ভট্টাচার্য্য

স্বভাঁবতঃই মনে হয় যে, আমার 'জ্ান' 'আমি* এই হুইএর সম্বন্ধটি হইতেছে ধর্ম ধর্মীর সম্বন্ধ_-জ্ঞান আমার ধর্ম, আমি জ্ঞানের ধর্ী। যদি বল হয় যে, এই সম্বন্ধটি আসলে তাদাত্ম্য বা অভেদ, তাহ! হইলে প্রকা রাস্তরে ইহাই বল হয় যে, আমি মানেই জ্ঞান, স্বতরাং জ্ঞান ন। থাকিলে আমিও থাকিতে পারি না। কিন্তু কর্লোরোফর্ম প্রয়োগে আমি অজ্ঞান হই, এবং মাঝে মাঝে আমার স্বপ্রহীন গাঢ় নিদ্রাও হয়। তখন কি আমি নাই হইয়া যাই? ক্লোরোফর্মের প্রভাব অথবা নুষুপ্তি চলিয়। যাওয়ার পর, একটি নৃতন আমি জন্মগ্রহণ করে কি? যদি আমার অজ্ঞান-অবস্থা বলিয়া কিছু থাকিতে পারে, তাহ1 হইলে বুঝিতে হইবে যে, জ্ঞান আমি এক নষ্ট অবশ্য, জ্ঞান আমি অভিন্ন না হইলেও, জ্ঞানের সহিত আমার সম্বন্ধ খুবই ঘনিষ্ঠ। জ্ঞান ছাড়া আমার জীবনযাত্রাই চলিতে পারে না। মুখ, হুঃখ, ইচ্ছা, দ্বেষ প্রভৃতি আমার অন্তান্ত আত্মিক গুণের সহিত জ্ঞানও অব্শ্যস্তাবীরূপে বর্তমান থাকে বস্ত্রতঃ, টেবিল, চেয়ার প্রভৃতি জড় পদার্থের সহিত আমার ষে অত্যন্ত মূলগামী পার্থক্য আছে, তাহা এই জ্ঞানের উপরেই নির্ভর করে-_ আমি চেতন, টেবিল চেয়ার প্রভৃতি অচেতন। তথাপি যেহেতু জ্ঞানের অভাবেও আমি বিদ্যমান থাকি, সেই কারণে জ্ঞানের সহিত আমার সম্বন্ধ অভেদ হইতে পারে না। শামি যদি আমার মধ্যে শুধু জ্ঞানই অন্থভব করিতাম এবং জ্ঞান বাতীত অন্য কিছুই উপলব্ধি না৷ করিতাম, তাহ হইলে হয়ত বলা যাইতে পারিত যে, জ্ঞান আমার ধর্ম নহে, উহা আমার স্বরূপ কিন্তু আমিত আমাতে সুখ, হুঃখ গ্রভৃতিও 'অনুভব করি। তাহ ছাড়। ইহার সকলেই উৎপত্তি-বিনাশশীল, অথচ ইহাদের উৎপত্তি বিন।শের সহিত আমি উৎপন্ন বিন হই, এইরূপ বলা চলে না। উহাদের তুলনায় আমি নিশ্চয়ই স্থায়ী পদার্থ। অতএব আমি উহাদের ধমী এবং উহার! আমার ধর্ম। জ্ঞানও এই ব্যাপারে সুখ হুঃখাদিরই মত। স্থতরাং সুখ, হঃখ প্রভৃতির ম্যায় জ্ঞানও আমার ধর্ম মাত্র, আমার স্বরূপ নহে অবস্থা, নী অন্থান্ত ধর্স অপেক্ষা জ্ঞানের গুরুব অনেক বেশী। | . উপরের মতটি আমাদের সাধারণ বুদ্ধির ভামুযায়ী চারি বিচার করিরী

১৪ দর্শন

দেখিলে উহাতে একটি দোষ লক্ষিত হইবে। সুখ, হঃখ, জ্ঞান প্রভৃতি আমার ধর্মমাত্র হইলে, স্বীকার করিতে হইবে যে, আমার স্বরূপটি সুখ, হঃখ, জ্ঞান প্রভৃতি হইতে ভিন্ন; এবং তখন প্র্থ উঠে, এই স্বরূপটি কি? বল যাইতে পারে যে, আত্মত্ব বা আমিত্বই আমার স্বরূপ কিন্তু এই উত্তর সম্তোষজনক নহে কারণ, জ্(ন, সুখ ইত্যাদি পদার্থ আমি যে রকমস্পষ্টভাবে নিজ অনুভূতিতে পাই, আত্মত্ব বা আমিত্বকে সুখ হংখাদি হইতে পৃথকরূপে সেই রকম স্পষ্টভাবে কখনও উপলব্ধি করিতে পারি না অবশ্য, অনুরূপ প্রশ্ন ঘটপটাদি বস্ত্র স্বরূপ সন্বন্ধেও উঠিতে পারে। সাধারণতঃ মনে কর। হয় যে, ঘট পদার্থটি তৎসংগ্লিষ্ট রূপ, স্পর্শ ইত্যাদি হইতে ভিন্ন কিন্তু রূপ স্পর্শাদি হইতে ভিন্ন ঘটের কোন স্বরূপ থাকিলে, তাহ। কি ? কিঞ্চিং বিচারাস্তে লক্ষিত হইবে যে, রূপস্পর্শদি হইতে পৃথক ঘট বলিয়। কোন পদার্থ বস্তজগতে থাকিলেও, সব ধর্ম ব্যতীত উহার কোন ধারণ। করাই সম্ভবপর নয়। প্রকৃত পক্ষে, ধর্ম গুলিই আমাদের জ্ঞানের বিষয়। ধর্মী ঘটটি আমাদের অভি- কল্পনার বিষয় মাত্র অবশ্য এই অভিকল্পন। খামখেয়ল নহে উহ। প্রত্যক্ষ জ্ঞান না হইলেও প্রত্যক্ষ জ্ঞানই উহার ভিত্তি ঘটের বন ধর্ম; তাহাদের মধ্যে অনেকগুলি পরিবর্তনশীল, এবং কতকগুলি অত্যন্ত অল্পকাল-স্থায়ী; তথাপি এইসব ধর্ম এমন একটি কিয়ংপরিমাণে স্থায়ী এঁক্য্ুত্রে পরস্পরের সহিত সন্বদ্ধ, যাহার অভাব হইলে ঘটও বিনষ্ট হয় ঘটায় ধর্মগুলির এই এক্ প্রতাক্ষ জ্ঞানের উপরই প্রতিষ্টিত। একটু ভাবিয়। দেখিলেই বুঝিতে পারা যাইবে যে, এই স্থায়ী এক্যটিই ঘটের ঘটত্ব বা! স্বরূপ, এবং এই এঁকদ্বার। সন্বদ্ধ রূপ, স্পর্শ, গন্ধ প্রভৃতি পদার্থ সমৃচ্তের সমষ্টি বিশেষই ঘট। বিশ্লেষণে পরিলক্ষিত হইবে যে, সচরাচর আমর] যে সব পদার্থকে কোন দ্রব্যের ধর্ম বা গুণ বলিয়া মনে করি, প্রকৃতপক্ষে সেইগুলি উক্ত দ্রব্যের উপাদান বা অংশ এবং দ্রব্যটি হইতেছে উচ্াদের দ্বারাই সংগঠিত একটি এঁক্যযুক্ত অংশী। “আমি” বন্তর ন্বরূপও একইভাবে নিদ্ধারণ করার যোগ্য আমার মামিত্ব বা আত্ম হইতেছে, মতসংশ্লিষ্ট জ্ঞান, সুখ, ইচ্ছ। প্রভৃতি কতকগুলি অত্যন্ত অল্পকাল স্থায়ী পদার্থের একটি বিশিষ্ট এক্য। আমি হইতেছি এইরূপ এক্যবদ্ধ বছ সুখ-হঃখ- ভ্ঞানাদির একটি সমগ্রি মাত্র

| ইহার বিরুদ্ধে আপত্তি হইতে পারে যে, ঘটপটাদি গ্রব্যের বেলায় যাহাই হউক, আত্মার বেলায় এই উপপত্তি ব। ব্যাখ্য। গ্রহণ কর! কঠিন। ঘটপটাদি বস্তুর এমন কতক গুলি ধর্ম থকে, যাহ কিয়ৎপরিমাণে স্থায়ী হওয়ায় এইসব স্থায়ী ধর্মের একতাযুক্ত সমগ্টিটিকেও স্থায়ী বলিয়া মনে কর। যাইতে পারে; সৃতরাং ঘটপটাদি

আত্ম! চৈতগ্কের সম্বন্ধ ১৫

বস্তকে তাহাদের ধর্মগুলির এঁক্যবন্ধ সমগ্রি বলিয়। গ্রহণ করিলে, স্থায়ী ঘট এবং তাহার বিবিধ বন স্থায়ী অস্থায়ী ধর্মের একটি স্ম্দর'উপপত্তি দেওয়। চলে। কিন্ত জ্ঞান, সুখ, প্রভৃতি আত্মধর্ম গুলির মধ্যে কোনটিই স্থায়ী নয় বলিয়া উহাদের 'সবগুলির সমষ্টি মিলিত রূপটি কোন কালেই সম্পূর্ণভাবে অস্তিত্ব লাভে সমর্থ হয় না। এই রকম কতকগুলি ক্ষণস্থায়ী পদের সমগ্টিকে স্থায়ী আত্মার স্বরূপ বলিয় গ্রহণ কর! কি করিয়া যুক্তিসঙ্গত হইতে পারে 7 |

এই মাপত্তির উত্তরে হয়ত বলা হইবে যে, কতকগুলি অস্থায়ী বস্তুর ক্রম ব! ধারার মধ্যেও একপ্রকার স্থায়ী একতা থাক। সম্ভবপর, এবং উহার দৃষ্টাস্ত আমাদের অনুভবের মধ্যেই পাওয়। যায়। উদাহরণ স্বরূপ, যে কোন শীতের উপাদান হইতেছে শুধু কয়েকটি ধ্বনি, গীত মানে এই সবধ্বনির সুর তাল সমন্বিত এবং বিশিষ্ট পৌর্বাপর্ধ যুক্ত সংগ্রহ মাত্র; ধ্বনিগুলি একটির পর একটি উৎপন্ন হইয়৷ বিলীন হইয়া বায়; তথাপি সমগ্র সঙ্গীতের বিশিষ্ট এক্য অক্ষুই. থাকে সেইরূপ, আত্ম- বস্তর উপাদানগুলি উৎপন্তি বিনাশশীল ক্ষণিক হইলেও, আত্মার একা স্থায়িত্ব থাকা সম্ভবপর। আপত্তি হইবে যে, সঙ্গীতস্থ ধ্বনিসমুদায়ের মধো একটি সুর" সঙ্গতি সুরসামপ্রস্ত থাকিলেও, সমগ্র সংগীতটি উহার সর্ব ধ্বনিসমুদায় লইয়া কখনও অস্ভিতলাভে সমর্থ হয় না; তাই সঙ্গীত পদার্থটিকে স্থায়ী বল। সঙ্গত নহে। তাহ। ছাড়া, অন্ততঃ এই কথা স্বীকার করিতে হইবে যে, একটি শীতের উপাদানীভূত ধ্বনিগুলির প্রত্যেকটিই যখন নাই হইয়া যায়, তখন গীতের পরিসমাপ্তি ঘটে এখন লক্ষ্য করার বিষয় এই যেঃ মাঝে মাঝে আত্মার উপাদানীভূত জ্ঞানসুখাদি অবস্থাগুলির সম্পূর্ণ বিরাম ঘটে ; এই কারণে প্রস্থ উঠে, তখন কি আত্মারও নাশ হয়? ন্ুষুপ্তিতে কি আমার মৃত্যু ঘটে, এবং সুধুপ্তির পরে যে আমি উ্িত হই, সেই আমি কি সগ্যোজাত নূতন আত্মা? জার্মাণ দার্শনিক লট্‌ৎসে নুষুপ্তি প্রভৃতি আত্মার অচেতন অবস্থাগুলিকে একটি গোট! সংঙ্গীতের অন্তর্গত নীরব ফাক জায়গাগুলির সঠিত তুলন। দিয়া, নুযুপ্তি উহার পূর্বাপর জাগ্রৎ অবস্থাতে একই আত্মার অস্তিত্ব সমর্থন করিয়াছেন কিন্তু ইহাতেও সমগ্র আত্মার একই সময়ে অস্তিত্বের ব্যবস্থ হয় না। এই মত মানিলে বলিতে হইবে ঘে আমার আত্মার বহু উপাদান বিনষ্ট এবং বু উপাদান অন্ুৎপন্ন --শুধু অতি ক্ষুদ্র বর্তমান অংশটিই প্রকৃতপক্ষে অস্তিত্ববান্। কিন্ত আমার আত্মার এঁকা স্থায়িত্ব সম্বন্ধে এইরূপ বলা স্বানুভাতির বিরুদ্ধে যায় নাকি? এই আপত্তির নিরসনে হয়ত বল! হইবে যে, জামার যে; ক্র ভগ্নাংশটি. বর্তমান: মুহূর্তে অস্তিন্ববান, তাহারই: গর্ভে আমার অতীত জ্ঞাননুখাদি

১৬ দর্শন

ংশগুলির সংস্কার ব। অন্জাত প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ অংশগুলির বীজ ব৷ প্রবণত। নিহিত আছে; সুতরাং ইহ। বল! অসঙ্গত হইবে ন। যে, আমি কতকগুলি স্বক্প- কালস্থায়ী ক্রমিক বৃত্তির সমগ্রিরূপ হওয়! সতেও, এইসব বৃত্তির প্রত্যেকটির মধ্যে আমি একটি বিশিষ্ট অর্থে সমগ্রভাবে অস্তিত্ববান্‌। ্সামাদের বিবেচ্য মূল প্রশ্নটি হইতেছে, জ্ঞান আত্মার সম্বন্ধ কি? প্রথম মতে, জ্ঞান আত্মার গুণ ব! ধর্ম; দ্বিতীয় মতে, জ্ঞান আত্মার একটি উপাদান ব। অংশ প্রথম মতের ক্রটি দ্বিতীয়টিতে দূর হইয়াছে বটে ; কিন্তু প্রথমটির তুলনায়, দ্বিতীয়টি সর্বসাধারণের দৃষ্টিতে কৃত্রিম বলিয়া! মনে হইবে। যেসব উপাদানে আত্মা গঠিত, নুষুপ্তিতে তাহাদের অবর্তমানেও আত্ম। বিদ্কমান থাকে, ইহা কিছু খাপছাড়া কথা নয় কি? সঙীতের অন্তর্গত ফাক জায়গাগচলি হয় উহার এঁক্যন্থষমার বিঘাতক ন৷ হইয়। বরং পরিপৃরকই হইতে পারে ; তথাপি আমার আত্মার এক্য যে এরূপ সঙ্গীতের এঁক্ের সায়, তাহ। বিশ্বাস কর কঠিন প্রথম মতটি যে রকম বলে যে, বহু পরিবর্তমান অবস্থ। ধর্ম-সত্বেও আমার আত্মা এমন একটি স্থায়ী দ্রব্য, যাহা আমার জীবনের প্রত্যেক মুহুর্তে, এমন কি নুষুণ্ত্যাদি অজ্ঞান অবস্থাতেও উঠার সমগ্র স্বরূপ সহ বিদ্যমান াকে, তাহাই অ।মাদের সাধারণ বুদ্ধিতে স্বাভাবিক সত্য বলিয়। মনে হয়। সুতরাং আত্মার স্থায়িত্ব এক্যের যদ্দি এমন একটি উপপত্তি দেওয়া যায়, যাহ। আমাদের এই সাধারণ বিশ্বাসের দ্বারা সমধিত হয়, আবার যাহাতে প্রথম মতটির তাত্বিক ক্রটিও থাকে না, তাহা হইলে সেই উপপত্তিটি প্রথম দ্বিতীয় মতের পরিবর্তে গ্রহণ করা সযুক্তিক হইবে। প্রথম মতের তরফে বল! যাতে পারে যে, আত্মার একটা কিছু উপাদান দেখাইতে হইবে, এমন কি কথা? পৃথিবীর সর্ব বস্তই যে ভিন্ন ভিন্ন উপাদানে গঠিত বিমিশ্র পদাথ, এমন কোন অলভ্ঘা নিয়ম নাই বন দার্শনিকের মত এন যে, পরমাণুঃ দেশ, আত্ম প্রভৃতি কতিপয় দ্রব্য অখণ্ড, নিরংশ অথব1 মিশ্র পদার্থ এই মতের সপক্ষে যুক্তিরও অভাব নাই। এই মত গ্রহণ করিলে, স্থযুগ্ডিতে অর্থাৎ জ্ঞানাদি সর্ব চেতন ধর্মের অভাব ঘটিলে, আত্মা কোন্‌ উপাদানে গঠিত, এই প্রশ্ন অবান্তর বলিয়। প্রতিভ1ত হইবে আমি যে অবস্থাতেই থাকি না| কেন, আমার নির্বচনের জন্য “আত্মা বা "আমি, শব্দই পর্যাপ্ত আত্মত্ব একটি জাতি ; অন্ততঃ, উহ! এমন একটি বিশিষ্ট ধর্ম, যাহ] শুধু আত্মাতেই থাকে ; এবং জাতি অথবা এইরূপ বিশিষ্ট ধর্ম ছার! কোন বস্তর নির্দেশ করিলে তাহার যথাযোগ্য নির্দেশই করা হয় | কিন্তু এই মতটি সম্পূর্ণ সন্তোষজনক নহে” একটু ভাবিয়া দেখিলে বুঝা

আত্ম। চৈতা্কের সম্বন্ধ ১৭

বাইবে যে, আত্মা শব্ধ দ্বার! কোন পদার্থকেই অন্যকোন পদাথ হইতে পৃথক করিয়া নির্দেশে করা অসস্ভব। আত্মা শব্দের অর্থ যদি 'ম্য” বা'নিজ' হয়, তাহ হইলে থে কোন পদার্থের বেলাতেই উহ প্রযোজ্য এমন কি অচেতন বস্তু সম্বন্ধেও '্যঃ বা *নিজ' শব্দের প্রয়োগ হইতে পারে। ঘটের কিংবা টেবিলের প্রকৃত "্ব'-ফ্নপ . কি, দর্শনশাস্ত্রে এইরূপ প্রশ্ন তুল। হয়। ইংরাজী ভাবায় 5০1 শব্দটি সর্থলিজ পুরুষ নিধিশেষে সব পদার্থ সম্পর্কেই ব্যবহৃত ছয়। ৭016 7০০1 10815 9156 1১৩5514, [ 55217 9০০. 9০০1:5০11 প্রভৃতি প্রয়োগ সুপরিচিত এই অর্থে, কোন কিছুকে ল্য, “নিজ অথব। “আত্মা” বলিলে, তাহাব স্বরূপ সম্বন্ধেকোন খবরই দেশুয়। হয় না। স্কৃত ভাষায় যখন বল হয়, “আত্মানং সততং রক্ষেতৎ দারৈরপি শ্রতৈরপি”*, তখনও আত্ম শব্দের ইহাই অর্থ অবশ্য, বাংল! ভাষায়, এট অর্থে আত্মা শবের প্রয়োগ খুব কম। কিন্তু একেবারে নাই তাহা নহে। আমরা “আত্মপ্রশংসা:, “আত্মপরভেদ' প্রভৃতি কথ! বলিয়। থাকি, তথাপি আমরা বাংলায় আত্মা বলিতে সাধারণতঃ উহ্াকেই বুঝাই, ষাহাকে বক্তা নিজে অন্যের নিকট 'আমি' শবে নির্দেশ করে। কিন্তু এই আমি শব্দটিও “স্ব বা 'নিজঃ শব্দের সহিত ঘনিষ্ঠভাবে সম্বন্ধ যে পদার্থই নিজের, সম্বন্ধে নির্দেশ দিতে পারে, তাহাই এই নির্দেশের জলা আমি শবের প্রয়োগ করে। স্থতরাং আমি শব দ্বারা কোন পদার্থের স্বরূপই অন্ত পদার্থের স্বরূপ হইতে পুথক করিয়া দেখান সম্ভবপর নহে টেবিলও যদি কথা৷ বলিতে পারিত, তাহ! হইলে মিজের সম্বন্ধে নির্দেশ দিতে আমি শব্দেরই প্রয়োগ করিত। অর্থাৎ আত্ম! শব্দ দ্বার! “ম্ব'- কেই বুঝান হয় £ আমি শব্দ দ্বারাও তাহাই অবশ্য আমি শব্দের প্রয়োগ শুধু বক্ত। চিস্তক নিজে নিজের সম্বন্ধেই ব্যবহার করে। মোট কথ। এই ষে, 'ন্ুৃবুপ্তিতে আত্ম। থাকে", এইরূপ কথনের পরেও তখন আত্মার বা আমার ম্বরনপটি ফি? এই প্রশ্ন অমীমাংসিত থাকে ন্ুযুপ্তিতে আমি বিদ্টম।ন থাকিলে, আমার একট কিছু স্বরূপ থাকে, ইহাতে বিল্বুমাত্র সন্দেহ. নাই। কিন্তু যদি বল। হয় যে, এই স্বরূপটি হইতেছে আত্মত্বন তাহ ভকটলে কোন নূতন কথাই বল। হয় না; শুধু ইহাই বল! হয় যে এই স্বরূপটি হইতেছে স্বরূপ | অবশ্য, আত্মশব্দটি একটি বিশিষ্ট পারিভাষিক অথে বাবনাত হইতে পারে। বল। যাইতে পারে যে, মাতম! হইতেছে সেই পদার্থ, যাহাতে জ্ঞান, স্থখ, হঃখ প্রভৃতি ধর্ম উৎপন্ন হয়ঃ যাহা! এই সব ধর্মের ধমী। এই অর্থে, বলা-যাইতে পারে যে, স্থযুক্তিতে এই ধর্মী পদার্থটি তাহার উক্ত ধর্মগুলি ছাড়াই বিদ্তামান থাকে নৈয়ায়িকের ভাষায় বল। যান, স্বুগ্চিতে জ্ঞানাদি পদার্থের অভাব. থাকিলেও, উহ্হাদের দমবায়ী,

৬৬ ' - ঈর্শন

কারণ রূপ ভ্রব্যটটি বর্তমান থাকে, এবং এই সমবায়ী কারণ রূপ দ্রব্ই আত্মা। কিন্ত এখানেও প্রশ্ন থাকিয়া যায়, উক্ত সমবারী কারণের কারণতাবচ্ছেদক ধর্মটি কি ? কারণত1 কোন বস্তরই স্বরূপ হইতে পারে না; উহ। শুধু তাহার পরিচায়ক বা লক্ষণ হক্টতে পারে। হয়ত বল হইবে যে, আত্মত্বই উক্ত কারণতার অবচ্ছেদক কিন্তু এইরূপ নির্দেশ দ্বার তেমন কিছু সার্থক কথা বল। হয় না। যে কোন কার্য পদার্থ দেখিয়াই, আমরা অনুমান করিতে পারি যে, উহার একটি সমবায়ী কারণ আছে। জ্ঞান কার্ধপদার্থ; সুতরাং তাহারও একটি সমবায়ী কারণ আছে। কিন্তু এই সমবায়ী কারণটিকে যদি আমরা উক্ত সমবায়িকারণত। ছাড়া অন্য কোন ধম ঘ্বার। বিশিষ্ট বলিয়। না জানি, তাহা হইলে উহাকে আত্ম। নাম দেওয়া, আর জ্ঞানের সমবায়ী কারণ বল। সমার্থক কথ?। অর্থাৎ যর্দি কেহ আত্মত্বকে উক্ত সমবায়ি- কারণতার অবচ্ছেদক বলে, তাহ হইলে সে সমবায়িকারণতাকেই সমবায়িকারণতার অবচ্ছেদক বলে। মুন্তিক ঘটের উপাদান। কিন্তু ঘটের উপাদান হওয়া, ইহাই কিছু মৃত্তিকার স্বরূপ নহে। ম্ৃত্তিকাত্বই মৃত্তিকার স্বরপ। অনুরূপভাবে যে নিজস্ব অর্থে মানম্মত্বকে আত্মার স্বরূপ বল চলে না, তাহ। ইতঃপৃর্বেই দেখাইয়। আসিয়াছি।

সংক্ষেপে মামাদের বক্তব্য এই যে, স্তুযুপ্তিতে জ্ঞানাদি ধর্মের অবর্তমানে আত্ম বিদ্যমান থাকিলে, জ্ঞানাদি হইতে ভিন্ন অন্য কোন ধর্মকে তাহার স্বরূপ বলিয়। নির্দেশ কর। আবশ্যক কিন্তু প্রথম মতটির পক্ষে তাহা সম্ভবপর নহে।

উপনিবদে বল। হইয়াছে যে, জাগ্রৎ, স্বপ্প ন্থযুপ্তি এই তিন অবস্থাতেই আত্মার স্বরূপ হইতেছে জ্ঞান। আমাদের মনে হয় যে, এই মতই গ্রহণ কর! যোগ্য কিন্ত আত্মার এই স্বরূপ-জ্জান ঘটের জ্ঞান, পটের জ্ঞান প্রভৃতি হইতে পৃথক উহা ঘটজ্ঞ।ন, পটজ্ঞান প্রভৃতির ন্যায় ন্বল্পকাল স্থায়ী পদার্থ নয়। ইহাদের তুলনায় উহ1 একটি স্থায়ী পদার্থ। অবশ্য, সর্বসাধারণ লোকের ধারণ এই যে, স্ুযুগ্তিতে কোন প্রকার জ্ঞান থাকে না। কিন্তু এই ধারণার প্রকৃত অর্থ এই যে, সুুগ্ডিতে ঘটজ্ঞান, পটজ্ঞান, প্রভৃতি আগমাপায়ী অত্যল্পকাল স্থায়ী জ্ঞানগুলি থাকে না। অর্থাৎ সুযুপ্তিতে আমর ঘটাদিবস্ত জানি ন। ন্মৃতরাং এই ধারণার সহিত বেদান্তেক্ত স্থায়ী জ্ঞানের অস্তিত্ব বিসংবাদী নহে

প্রশ্ন হইবে যে, আমাতে এইরূপ একটি স্থায়ী জ্ঞান আছে, ইহ। স্বানুভূতির ভিত্তিতে প্রমাণ কর। যায় কি? আমাতে ঘটজ্ঞান, পটজ্ঞান ইত্যাদি, একের পর এক এইভাবে, উৎপন্ন বিন হইয়। যায়, ইহা আমি নিজ অনুভূতিতে সাক্ষাৎ ভাবে অন্তনিরীক্ষণ দ্বারা বুঝিতে পারি। কিন্তু আমাতে যে একটি স্থায়ী জ্ঞান আছে, ইহ

আত্ম ও-টচৈতন্তের সম্বন্ধ ১৯

কি আমি কখনও সাক্ষাংভাবে অন্থভব করিতে পারি? তাহ। ছাড়া, সুবুগ্িতে আমি ঘটপটাদি বস্ত কিছুই জানি না৷ অথচ আমাতে একটি স্থায়ীজ্ঞান বিস্তমান থাকে, ইহা নিতান্তই অসম্ভবনীয় কথ! নয় কি; আবার, স্ুযুণ্তিতে জ্ঞান. থাকে, অথচ স্ুযুখি ভঙ্গ হয় না, ইহাই বা! কেমন কথা? তাহ! ছাড়া, নুধুপ্তিতে জ্ঞান আছে, এই কথা মানিয়! লইলেও, স্বভাবতঃই প্রশ্ন উঠে এই জ্ঞানের বিষয় কী, এই জ্ঞান দ্বারা আমি কীজ্জানি? আমরা নিশ্চয়ই নিধিষয়ক জ্ঞানের সহিত পরিচিত নহি। বিশেষ প্রমাণ ব্যতীত এইরূপ অপরিচিত পদার্থ স্বীকার কর। সঙ্গত নহে।

উপরের প্রতোকটি আপত্তিই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। যথাযোগ্যভাবে ইহাদিগকে নিরসন করিতে ন! পারিলে, আমাতে যে একটি স্থায়ী জ্ঞান আছে, উহ! আর আমি যে মূলতঃ এক এবং উহা! যে স্ুযুগ্তিতেও অক্ষুন থকে, এই মত গ্রহণ কর! কঠিন। আপত্তিঞুচলির নিরসন বিস্তৃত আলোচনা-সাপেক্ষ ; কিন্তু আমাদিগকে এখানে এই কাজটি সংক্ষেপে সারিতে হইবে

প্রথম আপত্তিটি হইল, আমাতে যে একটি দি নি আছে, তাহার প্রমাণ কি? প্রমাণ এই ষে, আমাতে যদি একটি স্থায়ীজ্ঞান ন। থাকিত, তাহ। হইলে আমি আমাতে যে ক্রমান্ধয়ে একটির পর একটি করিয়া ঘটপটাদি বিষয়ক অনেক জ্ঞান ইচ্ছ। প্রভৃতি মানসিক বৃত্তি উৎপন্ন হইয়া বিলীন হইয়? যায়, তাহ? স্বানুভূতির প্রকাশে ধরিতে পারিতাম না। ধর যাউক বে, এইমাত্র আমার ঘটজ্ঞানের পর পটজ্ঞান হইয়াছে স্বানুভৃতির আলোকে এই ফথা বুঝিতে হইলে, স্পষ্ট হউক অথব। অস্পষ্ট হউক কোন ন। কোন প্রকারে আমাকে জানিতে হইবে যে, আমাতে প্রথমে ঘটজ্ঞান ছিল এবং এই ঘটজ্জান চলিয়। যাওয়ার পর পটজ্ঞান উৎপন্ন হইয়াছে, অর্থাং আমকে অন্ততঃ নিয়লিখিত বিষয়গুলি জানিতে হইবে £ ! আগে ঘটজ্ঞান, তৎকালে পটজ্তানের অভাব, 1? তাহার পর ঘটজ্ঞানের ধ্বংস পটজ্ঞানের উৎপত্তি এবং 1 ঘটজ্ঞান পটজ্ঞানের ভেদ উহাদের পৌর্বাপখের একটি বিশিষ্ট ক্রম তাহ ছাড়া, এই বিষয়গুলির প্রত্যকটি একই জ্ঞানের বিষয় হওয়। দরকার এতসব কথ স্বল্পকাল স্থায়ী ঘটাদি-জ্ঞানের বিষয় হইতে পারে ন1। খুব বেশী হয়ত, ঘটজ্ঞান ঘটের সহিত নিজকেও জানে ; কিন্তু উহ নিশ্চয়ই নিজের ধ্বংস, পটজ্ঞানের উৎপত্তি এবং নিজের অস্তিত্বক।লে পটজ্ঞানের অভাবকে জানিতে পারে না। অথচ এইলব কথ মামি কোন ন। কোন রকমে জানিতে পারি। একটু ভাবিয়া দেখিলে বুঝ। যাইবে ষে, ইহার। প্রত্যেকে. একই অভিন্ন স্থায়ী জ্ঞানের বিষয়। আমাতে. এই স্থায়ী অভিনজ্ঞান কখন থাকে! এই. জ্ঞানকে ঘটজ্ঞান ও. পটভ্ঞানের পরবতী

২. দর্শন

বলিলে, ইহাই বল! হুয় যে, উহ। ম্মরণাত্মক কিন্তু স্মরণের জন্য পুর্বকালীন সাক্ষাৎ অনুভব চাই; এই সাক্ষাৎ অন্ুভবটি তাহার বিষয়ের সমকালীন হওয়া আবশ্টুক ; অর্থাৎ স্বীকার করিতে হইবে যে, যে কাল-খণ্ডে ক্রমান্বয়ে ঘটজ্ঞান, তাহার ধ্বংস পটজ্জানের উৎপত্তি ঘটিয়াছিল, তাহার সবটুকু অধিকার করিয়াই এই অম্মুভবটি বিগ্ভমান ছিল উহাদের তুলনায় উঠ! স্থায়ী ইহার আলোকেই ঘটজ্ঞান উৎপন্ন হইয়া কিছুকাল থাকিয়া বিলীন হইয়াছিল এবং তাহার পর পটজ্ঞান অস্ভিত্বলাভ করিয়াছিল। এই স্থায়ী জ্ঞানের অবিলুগ্ত দৃষ্টি এই সব ঘটনার প্রত্যেকটিকে দেখিয়।ছিল। এই স্থায়ী জ্ঞানের প্রসার্দেই আমার অন্তজীবনের ঘটনাবলী উহাদের বিশিই্ ক্রম-সহ আমাদ্বার সাক্ষাতৎভাবে উপলব্ধ হয়। যেহেতু আমার জাগ্রৎ মনোজীবনের সর্বচেতন অবস্থারই উৎপত্তি, স্থিতি ধ্বংস এবং তাহাদের নিদিষ্ট ক্রম অল্লাধিক স্পষ্টতার সহিত আমার পক্ষে স্মরণ করা সম্ভবপর, অতএব উহাদের সমগ্র ধরাটি যে কালখণ্ড অধিকার করিয়! থাকে, উক্ত স্থায়ী জ্ঞানও সেই কালখণ্ডের প্রত্যেক মুহূর্তে স্বীয় অপরিবর্তমান রূপে বিছ্মান থাকে |

শুধু জাগ্রৎ অবস্থাতেই নহে, উপরস্ত সুযুপ্তিতেও উহার আস্তিত্ব অবশ্ঠ-ন্বীকা ধ্য। সুবুপ্তি হইতে হঠাৎ জাগ্রত হইয়া আমি স্বকীয় অনুভবের সাহায্যেই বলিতে পারি যে, ইতঃপুর্বে আমি গভীর ঘুমে অচেতন অবস্থায় ছিলাম, তখন আমার কোন বন্ত্র সম্বন্ধে জ্ঞান ছিল না, এমন কি মামি কোন ব্বপ্রও দেখিতেছিলাম না। যেহেতু এইরূপ বাক্য দ্বারা যে-জ্ঞান ব্যক্ত হয়, তাহার বিষয় অতীতকালীন, অতএব এই জ্ঞানকে স্মরণাত্সমক বলিতে হইবে ইহা নিশ্চয়ই অন্ুমিতি নহে কারণ, কোন রকম অনুমান ব্যতীতই আমি সহজভাবে এরূপ কথা বলি তাহ। ছাড়া, এইরূপ অনুমানের হেতুই বাকি হইতে পারে? পরতে অগ্নির অন্ুমানে পৰতস্থ ধুমের ভ্ায় নুষুপ্তিস্থ কোন হেতুর সাক্ষাৎ জ্ঞান দ্বারা যে তৎক।লীন অবস্থার অনুমিতি করিব, তাহার সম্ভাবনা নাই। কারণ, এখন ন্থুযুপ্তি অবন্থা আর নাই খুব বেশী হয়ত বলা যাইতে পারেষে, যেহেতু সুযুপ্তি হইতে জাগ্রত হইয়। আমি তৎকালীন অবন্থার সম্বন্ধে কিছুই স্মরণ করিতে পারি না, অতএব অনুমান করি যে, আমার তংকালে কোন বিষয় সন্বন্ধেই জ্ঞান ছিল না, অর্থাৎ আমি অভ্ত্ান অবস্থায় ছিলান। কিন্তু কোন অতীত কাল-খণ্ডের ঘটনা নব পদার্থ সমূহ স্মরণ ন। করিতে পারিলে, আমি সেই কাল-খগ্ডে অন্ঞানাবস্থায় ছিলাম, আমি এরকম অনুমান বস্তুতঃ করি না! গুধু তাহাই নহে যদি বা এরূপ অন্ভুদিতি কর] হয়, তাহ। হইলে উহা সমিচীন হইবে না। কারণ স্মরণাভাব পূর্বকালীন জ্ঞানাভাবের সম্যক হেতু নয়। যেসব কালে

আত্ম! চৈতন্তের সম্বন্ধ ক. বি

আনার জ্ঞান ছিল না, সেই সব কালের ঘটন? রা পদার্থ আমি প্মরপ করিতে পারি না বটে; তথাপি এমনও হয় যে, জাগ্রং অবস্থাতেও কিছু কাল পূর্বে কোন্‌ কোন্‌ বস্ত আমি জানিতেছিলাম, তাহার কিছুই মনে পড়ে ন। কিস্তৃসেই জস্তা আমি যদি বলি ষে, তখন আমি অজ্ঞান অবস্থায় ছিলাম, তাহ। হইলে উহা ঠিক হইবে কি? বস্ততঃ, কোন কোন সময় জাগ্রৎ অবস্থাতেও আমি অন্কমনস্কভাবে এত সব অসংলগ্ন বান্ধে কথ। ভাবি যেঃ পরে ভাহার কিছুই আমার মনে পড়ে না; তথাপি আমি এমন বলি ন। ষে, তৎকালে আমার স্ুযুপ্ধি অথবা অজ্ঞানাবস্থা ছিল। খুৰ সম্ভবত: এরূপ না বলার হেতু এই ষে, যদিও আমাছারা জ্ঞাত তৎকালীন কোন ঘটন। ব1 পদার্থ আমি এখন স্মরণ করিতে পারি না, তথাপি আমার স্মৃতিতে এইরূপ প্রতিভাত হয় যে, তৎকালে আমি জাগ্রাৎ অবস্থাতেই ছিলাম, নিসা অবস্থায় নহে এই কথা ঠিক হইলে, স্বীকার করিতে হইবে যে, কোন অতীত কাল খণ্ডের কোনও পদার্থের স্মরণ ব্যতীতই আমি বর্তমানে এঁ অতীত কালের জাগ্রদবস্থা! ম্মরণ করিতে পারি। এবং তাহা হইলে, অনুরূপভাবে ইহাও সম্ভবপর যে, স্বযুপ্তি বা অজ্ঞানাবন্থা চলিয়। যাওয়ার পরে, আমি বর্তমান জাগ্রদবস্থায় অজ্ঞানাবস্া স্মরণ করি। সুযুপ্তি হইতে সগ্যোখিত ব্যক্তি যখন বলে যে সে ইতঃপূর্বে কিছুই জানিতেছিল না, তখন এই বাক্যে তাহার যে-জ্ঞান ব্যক্ত হয়, উ1-যে প্রত্যক্ষ বা অন্ুমিতি নয়, তাহা পূর্বেই দেখাইয়াছি। ন্মুতরাং এই জ্ঞান যদি শুধু অন্তের কথায় বিশ্বাস ছ্বার। উৎপন্ন ন! হইয়। থাকে, তাহা হইলে বলিতে হইবে যে, উহ স্মরণ ;

এইক্ষণে লক্ষ্য করিবার বিষয় এই যে, কোন কিছুর স্মরণ হইতে হইলে, তদ্ধিষয়ক পূর্বান্ুভূতি আবশ্টক যেহেতু স্ুযুগ্তি হইতে সম্ভোখিত ব্যক্তির সধুখ্থি বিষয়ক স্মরণ হয়, অতএব স্ত্যুপ্তিকালে তাহার নুষুপ্তি বিষয়ক একটি অনুভব নিশ্চয়ই ছিল। আর এই অনুভব-ষে শুধু সুযুপ্তিকালীন অজ্ঞান অবস্থাই প্রকাশ করে, তাহ! নহে, উপরস্ত ন্ুযুপ্তির পূর্ববর্তী পরবর্তী জাগ্রৎ অবস্থা ছুইটিও প্রকাশ করে। কারণ, আমি অবস্থাগুলির গ্রভ্যেকটিকে অদস্ত্গত জ্ঞানাদি বৃত্তি উহ্বাদের বিশিষ্ট আন্ুপূর্ব্য-সহ স্মরণ করিভে পারি। সুতরাং ুযুপ্তির প্রকাশক জ্ঞানটি আমাদের পুর্ব কথিত স্থায়ী জ্ঞানের সহিত অভিন্ন।